ভারত ও পাকিস্তান পাশাপাশি দুটি রাষ্ট্র। দুটিই শক্তিশালী এবং পারমাণবিক শক্তির অধিকারী। সীমান্তে দুই পক্ষের গুলি বর্ষণের কারণে উভয়ের মধ্যে বিরোধ লেগে থাকে। কিন্তু তারা সচরাচর। যুদ্ধের পর্যায়ে পৌছায় না। ফলে দুই পক্ষের মধ্য বৈরীতা। বিরাজ করে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উল্লিখিত রাষ্ট্রদ্বয়ের বৈরিতা তথা সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্বশান্তিকে এক নাজুক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে গিয়েছিল।
সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নেয় তা হলো বার্লিন অবরোধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর রাজধানী বার্লিন তথা পুরো জার্মানি মিত্রপক্ষ ভাগ করে।
নেয়। সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন পায় পূর্ব জার্মানি। আর পুঁজিবাদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা লাভ করে পশ্চিম জার্মানি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইউরোপের রাজনৈতিক ময়দানে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান সোভিয়েত ইউনিয়ন কখনো সহজভাবে মেনে নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর আধিপত্য বিস্তারের উদ্যোগ নেয়। ঠান্ডা লড়াইয়ে প্রাধান্য অর্জনের জন্য দুই দেশই ভয়াবহ পারমাণবিক অস্ত্রসহ সমরসম্ভার সমৃদ্ধ করে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন নিজেদের প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট হয়। তারা বিভিন্ন সময়ে কোরীয় উপদ্বীপ, ভিয়েতনাম, লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ, আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যে ছায়া যুদ্ধে (Proxy War) জড়িয়ে পড়ে। বছরের পর বছর ধরে চলা এসব যুদ্ধে অকল্পনীয় মাত্রায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্নায়ুযুদ্ধের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট। ১৯৬২ সালের ১১ অক্টোবর সোভিয়েত সরকার ঘোষণা করে যে, কিউবার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করতে তারা সে দেশে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করবে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত ঘেঁষা কিউবায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সম্ভাবনা থেকে বিশ্ব পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকিতে পড়েছিল বলে অনেকে ধারণা করে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বৈরিতা বিশ্ববাসীকে এক নাজুক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায়।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?